
।।স্টাফ রিপোর্টার :গোলাম মোস্তফা।।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-০১ (ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, কচাকাটা ) আসনে গণভোট বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই বেশিরভাগ ভোটারের। নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হওয়া সত্ত্বেও গণভোট কী, কেন এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ভোটারদের করণীয় কী—এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম, হাটবাজার ও জনসমাগমস্থলে কথা বলে জানা যায়, অনেক ভোটারই গণভোটের বিষয়টি প্রথমবার শুনছেন। আবার কেউ কেউ গণভোটকে সংসদ সদস্য নির্বাচন কিংবা প্রতীকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে এ বিষয়ে জানার আগ্রহ থাকলেও সঠিক তথ্যের অভাব স্পষ্ট।
নাগেশ্বরী উপজেলার এক ভোটার বলেন, “ভোট তো দেব, কিন্তু গণভোট আসলে কী, সেটা কেউ বুঝিয়ে বলেনি। ব্যালটে কীভাবে ভোট দিতে হবে, সেটাও জানি না।”
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আরেক ভোটার জানান, “টিভিতে মাঝে মাঝে শুনছি গণভোটের কথা, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ এসে বিস্তারিত বোঝায়নি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গণভোট নিয়ে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টার, লিফলেট কিংবা মাঠপর্যায়ে সভার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বলেন, “গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ভোটাররা যদি এর তাৎপর্য না বোঝেন, তাহলে প্রত্যাশিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।”
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ কে প্রচারণা সম্পর্কে জানতে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলে তিনি কোন উত্তর দেননি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোটগ্রহণের আগে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যাপক গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো জরুরি। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় সভার মাধ্যমে গণভোটের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি সহজভাবে তুলে ধরা গেলে ভোটারদের বিভ্রান্তি অনেকটাই কমবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুড়িগ্রাম-০১ আসনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে গণভোট বিষয়ে স্পষ্ট ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।