মোঃ কামরুল হাসান কাজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলা চালানোর অভিযোগে করা মামলার আসামী হারিসুল বারিকে সংসদীয় আসন ২৫ কুড়িগ্রাম ১ এ সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। উক্ত মামলায় ১ নং আসামী পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর ২৭ নং আসামী হারিসুল বারি।
ফ্যাসিস্টের দোসর ছাত্র-জনতার উপর হামলাকারী মামলার আসামীকে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী করায় নির্বাচনী এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠেছে।
জানা যায়, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতাকে হত্যার বিচার চেয়ে জনৈক হরিপদ মন্ডল ঢাকা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালত (সাভার) শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামী করে মোট ৯১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করে।
ওই মামলার ২৭ নম্বরে থাকা অন্যতম আসামি হারিসুল বারি রনিকে কুড়িগ্রাম-১ আসন থেকে মনোনয়ন দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পরে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফশীল অনুযায়ী যথারীতি মনোনয়ন পত্র জমাদেন এবং যাছাই বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার তা বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর থেকে তিনি এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সঙ্গে থাকছে তার বিশাল গাড়িবহর।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হরিপদ মন্ডল (৪২) পিতা-পনির চন্দ্র মন্ডল, বাসা/হোল্ডিং-ডি/২০, জমিদার বাড়ী, ডাকঘর-সাভার-১৩৪০, সাভার পৌরসভা, থানা-সাভার, জেলা ঢাকা বাদি হয়ে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী সাভার আদালত, ঢাকা ৯১ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
সি.আর মামলা নং-৪০৭/২০২৫ ধারা:১৪৩/১৪৪/১৪৭/১৪৮/ ৩২৪/৩২৫/৩২৬/ ৩০৭/১০৯/৩৪ দঃ বিঃ উক্ত মামলার ১ নং আসামী শেখ হাসিনা, ২ নং আসামী ওযায়দুল কাদের এবং ২৭ নং আসামী হিসেবে হারিসুল বারির নাম রয়েছে। ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ আছে আদর্শপাড়া, পশ্চিম নাগেশ্বরী, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ১নং আসামী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রদান করতঃ কঠোর হাতে দমন করার নির্দেশ দিয়েছেন। ২নং আসামী ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সময় গণমান্যমে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ দিয়ে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়েছেন।
একইভাবে ৩ হইতে ৪ নং আসামীদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে, মদদে ও আদিষ্ট হইয়া ৫ হইতে ৯১ নং আসামীগনের প্রত্যেক্ষ মদদে, পরিকল্পনায় ও সহযোগিতায় তাহাদের দ্বারা নিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা সহ অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, তাঁতীলীগ ও তাহাদের অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা/আসামীরা আরজিতে বর্ণিত ঘটনাস্থলে ঘটনার দিন ও সময়ে বর্বরোচিত হামলা চালাইয়া বাদীর পুত্র ভিকটিম শুভজিৎ মন্ডলসহ আরোও অনেক মেধাবী ছাত্র জনতাকে গুলি করিয়াছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই হামলার বিচার হওয়া আবশ্যক বিধায় বাদী অত্র মামলাটি দায়ের করিলেন।
নির্বাচনি এলাকার সাধারণ ভোটার, আমিনুর রহমান, মিজানুর রহমান, আব্দুল বারেক ও আসাদুজ্জামান বলেন, ইতঃপূর্বে তিনি এলাকায় খুব একটা আসতেন না। তিনি জাপা ও আলীগের এমপির সাথে যোগ সাজসে ঠিকাদারী ব্যবসা করতেন। এভাবেই তার ব্যবসায়িক জগতে অনেকটা ফুলে ফেঁপে ওঠা। ৫ আগস্টের পর হঠাৎ তিনি চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনে যোগদান করে কুড়িগ্রাম-১ আসনে এমপি প্রার্থী বনে যান। তার নির্বাচন করাকে আমরা ফ্যাসিস্টের পুনর্বাসন হিসেবেই মনে করছি। এ নিয়ে নির্বাচনী এলাকার মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক ছাত্র নেতা জানান,এটি স্পষ্টভাবেই ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ছাড়া আর কিছুই নয়। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার এজহারভুক্ত আসামি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
এবিষয়ে জানতে হারিসুল বারি রনির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি তখন নাগেশ্বরীতেই ছিলাম। কিন্তু কে বা কারা ষড়যন্ত্র করে আমার নামে ঢাকার সাভারে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। নির্বাচনী হলফ নামায় তা উল্লেখ আছে। পুলিশ তদন্ত করে ওই মামলায় আমার কোন সংশ্লিষ্টতা পায়নি।